পাট্টার আবেদন — সরকারি জমির বন্দোবস্ত ও দখলের স্বীকৃতি
পশ্চিমবঙ্গ সরকার — ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিস (বাংলার ভূমি পোর্টাল)
বিস্তারিত বিবরণ
পাট্টা হল উপযুক্ত ভূমি কর্তৃপক্ষের দেওয়া জমি বরাদ্দ বা দখলের সরকারি নথি। সরকার যে নির্দিষ্ট জমি কাউকে বরাদ্দ বা বন্দোবস্ত দিয়েছে, তার উপর সেই ব্যক্তির অধিকার এতে লেখা থাকে। রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী বাস্তু জমি, কৃষিজমি, খাস (ভেস্টেড) জমি, সরকারি জমি বা জমি নিয়মিতকরণের ক্ষেত্রে পাট্টা দেওয়া হয়।
পাট্টা দখলের আইনি স্বীকৃতি দেয় এবং প্রযোজ্য আইন সাপেক্ষে খেয়ালখুশি উচ্ছেদ থেকে সুরক্ষা দেয়। আবাসন, কৃষি, জীবিকা, শৌচাগার, বিদ্যুৎ ও জল সংযোগের মতো প্রকল্পে আবেদনের সময় এটি কাজে লাগে। ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবার—বিশেষত তফসিলি জাতি, উপজাতি, সংখ্যালঘু, মহিলা ও ভূমিহীন পরিবার—এর মাধ্যমে বাস্তু বা কৃষিজমির অধিকার পেতে পারেন। পরে মিউটেশন, রেকর্ড সংশোধন বা খাজনা দেওয়ার জন্যও পাট্টা লাগতে পারে।
আবেদন করা যায় গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিস (BL&LRO), রেভিনিউ ইনস্পেক্টর অফিস বা মহকুমা ও জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিসে। রেভিনিউ ইনস্পেক্টরের সরেজমিন তদন্ত ও পঞ্চায়েতের যাচাইয়ের পর অনুমোদিত হলে পাট্টা সার্টিফিকেট বা জমি বন্দোবস্তের আদেশ দেওয়া হয়। যোগ্যতা রাজ্যের ভূমি আইন ও পাট্টার ধরনের উপর নির্ভর করে।
এক নজরে
- পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ
- পশ্চিমবঙ্গ সরকার — ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিস (বাংলার ভূমি পোর্টাল)
- প্রকল্পের ধরন
- আবাসন, কৃষি
- কর্মস্থল / এলাকা
- পশ্চিমবঙ্গ
- আবেদনের মাধ্যম
- অনলাইন ও অফলাইন
- গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
- সারা বছর আবেদন করা যায়
সুবিধা
- জমির দখল বা বরাদ্দের আইনি স্বীকৃতি
- জমির মালিকানার নিরাপত্তা; প্রযোজ্য আইন সাপেক্ষে খেয়ালখুশি উচ্ছেদ থেকে সুরক্ষা
- আবাসন, কৃষি, জীবিকা, শৌচাগার, বিদ্যুৎ ও জল প্রকল্পে আবেদনে কাজে লাগে
- ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবার বাস্তু বা কৃষিজমির অধিকার পেতে পারে
- অনুমোদনের পর জমির রাজস্ব রেকর্ডে পাট্টার তথ্য উঠতে পারে
- বিদ্যুৎ, জল, শৌচাগারের মতো সংযোগের আবেদনে প্রমাণ হিসেবে চলে
- কৃষি পাট্টায় চাষ, খামারে বিনিয়োগ ও কৃষি সহায়তা পেতে সুবিধা
- দখল ও জমি ব্যবহার নিয়ে বিবাদ কমে
- দুর্বল পরিবারের—বিশেষত তফসিলি জাতি, উপজাতি, সংখ্যালঘু, মহিলা ও ভূমিহীনদের—সম্পদ বাড়ে
- মিউটেশন, রেকর্ড সংশোধন বা খাজনা দেওয়ার মতো পরে দরকারি কাজের ভিত্তি
যোগ্যতা
যোগ্যতা রাজ্যের ভূমি আইন ও পাট্টার ধরনের উপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে:
- সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা এলাকার বাসিন্দা
- ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রান্তিক চাষি, বর্গাদার, দখলদার বা রাজ্যের জমি বণ্টনের নিয়মে যোগ্য উপভোক্তা
- জমি বন্দোবস্তের যোগ্য শ্রেণির মানুষ—যেমন আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবার, তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি, সংখ্যালঘু, উদ্বাস্তু, বাস্তুচ্যুত, কৃষিশ্রমিক বা অন্য বিজ্ঞাপিত শ্রেণি
- রাজ্যের নির্ধারিত সীমার বেশি জমি আগে থেকেই থাকা চলবে না
- বৈধ পরিচয়পত্র, বাসস্থানের প্রমাণ এবং দখল বা যোগ্যতার নথি থাকতে হবে
- উত্তরাধিকার বা বর্তমান দখলের ক্ষেত্রে আগের জমির রেকর্ড, খাজনার রসিদ, দখলের প্রমাণ বা স্থানীয় যাচাই লাগতে পারে
- জমিটি বন্দোবস্ত বা নিয়মিতকরণের যোগ্য হতে হবে; সংরক্ষিত, বনভূমি, জলাশয়, জনপরিষেবার বা নিষিদ্ধ জমি দখল করে থাকলে সাধারণত যোগ্য নয়
প্রয়োজনীয় নথি
- পূরণ করা আবেদনপত্র
- আধার কার্ড বা অন্য পরিচয়পত্র
- ভোটার কার্ড বা বাসস্থানের প্রমাণ
- রেশন কার্ড
- প্রয়োজনে আয়ের সার্টিফিকেট
- প্রযোজ্য হলে জাতি সার্টিফিকেট
- প্রয়োজনে ভূমিহীনতার সার্টিফিকেট বা ঘোষণাপত্র
- প্রযোজ্য হলে বর্তমান দখলের প্রমাণ
- থাকলে আগের জমির রেকর্ড, খতিয়ান বা দাগের বিবরণ
- আবেদনকারীর ছবি
- প্রয়োজনে স্ব-ঘোষণা বা হলফনামা
- জমির দাবি সংক্রান্ত কোনো আদেশ, বরাদ্দপত্র বা নথি
আবেদনের পদ্ধতি
কোথায় আবেদন করবেন:
- গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস
- ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিস (BL&LRO)
- রেভিনিউ ইনস্পেক্টর অফিস
- মহকুমা বা জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিস
প্রক্রিয়া:
- গ্রাম পঞ্চায়েত, BL&LRO, রেভিনিউ ইনস্পেক্টর অফিসে যান বা রাজ্যের জমির রেকর্ড পোর্টালে সংশ্লিষ্ট অনলাইন পরিষেবা বেছে নিন
- নির্ধারিত পাট্টা আবেদনপত্র নিন
- নাম, ঠিকানা, পরিবারের তথ্য, জমির প্রয়োজন, দখলের তথ্য, মৌজা, দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর ও পাট্টার উদ্দেশ্য লিখুন
- প্রয়োজনীয় নথি জুড়ে বা আপলোড করে, কোনো ফি থাকলে তা দিয়ে জমা দিন
- রাজস্ব কর্তৃপক্ষ পরিচয়, বাসস্থান, ভূমিহীনতা বা যোগ্যতা ও জমির তথ্য যাচাই করবে
- রেভিনিউ ইনস্পেক্টর সরেজমিন তদন্ত করতে পারেন; গ্রাম পঞ্চায়েত বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দখল, বাসস্থান ও যোগ্যতা যাচাই করতে পারে
- জমিটি আইনত বন্দোবস্তের জন্য পাওয়া যায় কি না দেখা হবে; আপত্তি থাকলে নোটিস বা শুনানি হতে পারে
- যাচাইয়ের পর উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ আবেদন মঞ্জুর বা নামঞ্জুর করবে
- মঞ্জুর হলে পাট্টা সার্টিফিকেট বা জমি বন্দোবস্তের আদেশ দেওয়া হয় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকারি জমির রেকর্ডে তা ওঠে
সর্বশেষ আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৬
ভুল তথ্য জানান