জমির মিউটেশন — জমির রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম তোলা
পশ্চিমবঙ্গ সরকার — ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিস (বাংলার ভূমি পোর্টাল)
বিস্তারিত বিবরণ
জমি বা সম্পত্তির হাতবদলের পর সরকারি জমির রেকর্ডে নতুন মালিক বা দখলদারের নাম তোলার প্রক্রিয়াকে মিউটেশন বলে। বিক্রি, উত্তরাধিকার, দান, বাঁটোয়ারা, বিনিময়, আদালতের আদেশ বা অন্য আইনি হস্তান্তরের পর এটি দরকার হয়। মিউটেশন নিজে মালিকানা তৈরি করে না, তবে রাজস্ব রেকর্ডে মালিকানার পরিবর্তন নথিভুক্ত করে।
মিউটেশন হলে নতুন মালিক নিজের নামে খাজনা দিতে পারেন, হালনাগাদ রেকর্ড অফ রাইটস ও খতিয়ান পান, পরে জমি বিক্রি, লিজ বা বন্ধক দিতে এবং ব্যাংক ঋণ নিতে সুবিধা হয়। রেকর্ডভুক্ত মালিকের মৃত্যুর পর আইনি উত্তরাধিকারীরাও এভাবে নিজেদের নাম তোলাতে পারেন। মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি ও ভবিষ্যতের বিবাদও কমে।
আবেদন করা যায় বাংলার ভূমি (banglarbhumi.gov.in) পোর্টালে অনলাইনে—সেখানে আবেদনের অবস্থাও দেখা যায়—অথবা ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিস (BL&LRO), রেভিনিউ ইনস্পেক্টর অফিস, মহকুমা বা জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিস বা কমন সার্ভিস সেন্টারে। উত্তরাধিকার, বাঁটোয়ারা বা বিতর্কিত ক্ষেত্রে সরেজমিন তদন্ত বা শুনানি হতে পারে।
এক নজরে
- পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ
- পশ্চিমবঙ্গ সরকার — ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিস (বাংলার ভূমি পোর্টাল)
- প্রকল্পের ধরন
- অন্যান্য
- কর্মস্থল / এলাকা
- পশ্চিমবঙ্গ
- আবেদনের মাধ্যম
- অনলাইন ও অফলাইন
- গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
- সারা বছর আবেদন করা যায়
সুবিধা
- জমির রাজস্ব রেকর্ডে নতুন মালিক বা আইনি উত্তরাধিকারীর নাম ওঠে
- রাজস্ব ও প্রশাসনিক কাজে সরকারি রেকর্ডে নতুন মালিকের স্বীকৃতি
- নিজের নামে খাজনা, ভূমি রাজস্ব বা সম্পত্তি সংক্রান্ত বকেয়া দেওয়া যায়
- মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি ও ভবিষ্যতের বিবাদ কমে
- পরে জমি বিক্রি, হস্তান্তর, লিজ, বন্ধক বা উন্নয়নে সুবিধা
- হালনাগাদ রেকর্ড অফ রাইটস, খতিয়ান, দাগের তথ্য ও অন্য নথি পাওয়া যায়
- ব্যাংক ঋণ বা বন্ধকের জন্য হালনাগাদ রেকর্ড কাজে লাগে
- রেকর্ডভুক্ত মালিকের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীদের নাম ওঠে
- banglarbhumi.gov.in-এ অনলাইনে আবেদন ও আবেদনের অবস্থা দেখা যায়
যোগ্যতা
যাঁরা জমি বা সম্পত্তিতে আইনি অধিকার পেয়েছেন, যেমন:
- রেজিস্টার্ড বিক্রয় দলিলে জমি কিনেছেন এমন ক্রেতা
- রেকর্ডভুক্ত মালিকের মৃত্যুর পর আইনি উত্তরাধিকারী
- রেজিস্টার্ড দানপত্রে জমি পেয়েছেন এমন ব্যক্তি
- বাঁটোয়ারা দলিল বা পারিবারিক বন্দোবস্তে জমি পেয়েছেন এমন ব্যক্তি
- বিনিময় বা হস্তান্তর দলিলে জমি পেয়েছেন এমন ব্যক্তি
- আদালতের ডিক্রি বা সরকারি আদেশের ভিত্তিতে দাবিদার
- রেকর্ডে সংশোধন বা নাম অন্তর্ভুক্তি চান এমন সহ-অংশীদার বা উত্তরসূরি
- আইনসম্মতভাবে জমি পাওয়া প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, ট্রাস্ট বা সোসাইটি
- হস্তান্তর, উত্তরাধিকার বা আইনি অধিকারের বৈধ নথি থাকতে হবে
- মিউটেশন আটকে দেয় এমন কোনো আইনি বিবাদ চলা উচিত নয় (উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে আলাদা কথা)
প্রয়োজনীয় নথি
- আবেদনপত্র
- রেজিস্টার্ড দলিল বা হস্তান্তরের নথি
- আগের রেকর্ড অফ রাইটস / খতিয়ান / জমির রেকর্ডের প্রতিলিপি
- দাগ ও মৌজার বিবরণ
- আবেদনকারীর পরিচয়ের প্রমাণ
- ঠিকানার প্রমাণ
- উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে মৃত্যু সার্টিফিকেট
- প্রযোজ্য হলে আইনি উত্তরাধিকারী সার্টিফিকেট বা উত্তরাধিকারের নথি
- প্রয়োজনে অনাপত্তিপত্র (NOC)
- প্রযোজ্য হলে আদালতের আদেশ বা ডিক্রি
- সর্বশেষ খাজনা বা ভূমি রাজস্বের রসিদ
- প্রয়োজনে পাসপোর্ট সাইজের ছবি
আবেদনের পদ্ধতি
কোথায় আবেদন করবেন:
- বাংলার ভূমি (banglarbhumi.gov.in) পোর্টালে অনলাইনে
- ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিস (BL&LRO)
- রেভিনিউ ইনস্পেক্টর অফিস
- মহকুমা বা জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিস
- কমন সার্ভিস সেন্টার (যেখানে আছে)
প্রক্রিয়া:
- দলিল, উত্তরাধিকারের নথি, মৃত্যু সার্টিফিকেট, আগের রেকর্ড অফ রাইটস, খাজনার রসিদ ও পরিচয়পত্রের মতো সব নথি জোগাড় করুন
- অনলাইন পোর্টালে বা স্থানীয় ভূমি রাজস্ব অফিসে মিউটেশনের আবেদনপত্র পূরণ করুন—আবেদনকারী, হস্তান্তরকারী, মৌজা, খতিয়ান, দাগ নম্বর, পরিমাণ ও হস্তান্তরের ধরন লিখুন
- নথি অনলাইনে আপলোড বা অফিসে জমা দিন
- মিউটেশন ফি বা পরিষেবা মূল্য অনলাইনে বা নির্ধারিত পদ্ধতিতে দিন
- জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তিস্বীকার বা আবেদন নম্বর পাবেন
- রাজস্ব কর্তৃপক্ষ আবেদন, দলিল, জমির রেকর্ড ও নথি যাচাই করবে
- উত্তরাধিকার, বাঁটোয়ারা, বিতর্কিত বা জটিল ক্ষেত্রে সরেজমিন তদন্ত বা শুনানি হতে পারে; প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের নোটিস দেওয়া হয়
- আপত্তি না এলে এবং নথি বৈধ হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ মিউটেশন অনুমোদন করে এবং রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম ওঠে
- হালনাগাদ রেকর্ড অফ রাইটস, খতিয়ান বা মিউটেশন সার্টিফিকেট ডাউনলোড বা সংগ্রহ করুন
সর্বশেষ আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৬
ভুল তথ্য জানান